Hits: 3

মো: শফিকুর রহমান-বান্দরবান প্রতিনিধি:-

পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর কেটে গেছে ২৪ বছর। চুক্তির পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও পাহাড়ে থামেনি অস্ত্রের ঝনঝনানি। বরং দিনে দিনে বাড়ছে সংঘাত, খুন, গুমসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ যেন বইয়ের পাতায় বন্দি হয়ে আছে চুক্তির নানান নিয়ম-নীতি। কিন্তু এই নীতি সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে লাগাম টানতে পারেনি।

পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষে তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (‌জেএসএস) চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সন্তু লারমার দল গত দুই যুগ ধরেই দাবি করে আসছে, চুক্তির মূল ধারার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেনি সরকার।

বিপরীতে আওয়ামী লীগ নেতা‌দের দাবি, ধাপে ধাপে চুক্তির ৯৭ ভাগই বাস্তবায়ন করেছে সরকার। আর যে কয়‌টি শর্ত বাকি আছে তা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষ‌কে বসে সম্পাদন কর‌তে হবে। তা‌দের দাবি, চুক্তির পর জেএসএস নেতা‌দের সব অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা গোডাউনের কিছু পুরাতন অস্ত্র জমা দি‌য়ে শর্ত ভঙ্গ করেছে। এর কারণেই পাহাড়ে এখনও অস্ত্রের ঝনঝনানি চলমান আছে।

এদিকে, পাহাড়ের অন্য সংগঠনগু‌লোও অভিযোগ তুলেছে জেএসএস মূল দলের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পুরোপুরি অস্ত্র সমর্পণের কথা থাকলেও জেএসএস এখনও অস্ত্রবাজি ও প্রতিপক্ষকে হত্যা করে যাচ্ছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণেই জেএসএস অস্ত্র ছেড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে আসতে পারছে না। চুক্তির সময়ও পাহাড়ে জেএসএসের বিবদমান প্রতিপক্ষ ছিল ইউপিডিএফ। এ ছাড়া জেএসএস (সংস্কার)-এর প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র লারমার অনুসারীরা মূল আদর্শে থাকতে চাওয়ায় জেএসএস (মূল) দল‌টি বিভক্ত হয়ে পাহাড়ে বেড়ে যায় প্রতিপক্ষ গ্রুপ সংখ্যা। পরবর্তী সময়ে আদর্শ কিংবা স্বার্থের সংঘাতে ইউপিডিএফও ভেঙে যাওয়ায় জুম্ম জনগোষ্ঠীর অধিকারের কথা এখন কেবলই আদর্শিক স্লোগান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মারমা নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অভিযোগ, ‘পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র তাক করে আদর্শ ও ঐক্যের কথা বলে সংগঠনগু‌লো।’ একাধিক বাসিন্দা গত দুই যুগের রাজনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘পাহাড়ে আগে যুদ্ধ ছিল। ফলে তখনও শান্তি ছিল না। যুদ্ধ থামার পর পাহাড়ি সংগঠনগুলোর বিবাদ তো লেগেই আছে।’

তবে নিজেদের মধ্যেই শান্তি আসেনি এমন হতাশা জানিয়ে প্রবীণ মারমা সদস্যরা জানান, আগের তুলনায় পাহাড়ে ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে চাঁদাবাজি। এই চুক্তির আগে চাঁদা দিতে হতো যুদ্ধের নামে। চুক্তির পর মুক্তির আশা করলেও সেই সময়টি কখনোই আসেনি। আগে মোটামুটি হারে একটা চাঁদা নিয়ে যেত সশস্ত্র সংগঠনগুলো। তবে গত ২৪ বছরে এখানে পাঁচটি সংগঠন হওয়ায় সবাই চাঁদা নেয়। গরু-ছাগল, মুরগি, ধান, কলা, জুমের ফসল কিছুই বাদ যায় না চাঁদার আওতা থেকে। ছেলেরা চাকরি কিংবা ব্যবসা করলেও চাঁদা দিতে হয়। কেউ রসিদ দেখিয়ে চাঁদা নেয়, কেউবা চোখ গরম করে নেয়। তারা বলেন, ‘ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারি না। আগে শুধু আমাদের পাহাড়িদের চাঁদা দিতে হতো। এখন হাট-বাজারসহ বাঙালিদেরও মাঠের ফসল, বাড়ির এটা-সেটার জন্য চাঁদা দিতে হয়। প্রায়ই চাঁদা আদায়কারীদের দ্বারা অপহরণ, মারধর, হত্যার শিকার হন অনেকেই। সব কথা কাগজে উঠেও আসে না। অনেকেই ভয়ে কারও কাছে কোনও অভিযোগও করে না।’

নাম না প্রকাশের শর্তে পাহাড়ে বসবাসকারী বেশ কিছু বাঙালি বলেন, ‘পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নিরাপত্তার বড়ই অভাব। নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাতে সচরাচর পাওয়া যায় না। পাহাড়ি সংগঠনগুলো এখনও সশস্ত্র। বিশেষ করে রাতে তারা অস্ত্র ছাড়া এক পাও ফেলে না। যুদ্ধ থামলেও এখনও প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলার শিকার হওয়ার ভয় আছে সব পক্ষের। প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ প্রতিপক্ষের টার্গেট হয়। রাতে চলে খোঁজ। এ কারণে রা‌তে পাহাড়ি গ্রামগু‌লো প্রায়ই পুরুষশূ‌ন্য থাকে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে অনেক নেতা নিজ বাড়িমুখো হন না।’

জানা গেছে, গত চার বছরে শুধু বান্দরবানেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৮ জন। তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি) নিহত হ‌য়ে‌ছে শতাধিক মানুষ। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের

পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালিরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ে বাস করা বাঙালিদের বেশিরভাগ সময়ে প্রতিবাদের বদলে সমঝোতা করেই থাকতে হয়। চাঁদা দিতে হয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নির্দেশে চা‌হিদা মাফিক। তবে এই চাঁদাবাজি স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকদের ওপরে আরও বেশি হয়। পুরো দেশের ম‌ধ্যে ব্যতিক্রম তিন পার্বত্য জেলা। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি প্রয়োগ না করে শান্তি ফিরিয়ে আনা সহজ নয়।

বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীরের দাবি, ‘সরকারের স‌দিচ্ছার কারণেই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হ‌য়ে‌ছে। বর্তমানে পাহাড়ে যেসব উন্নয়ন হ‌য়েছে, সবগু‌লোই চুক্তির পরে হ‌য়ে‌ছে। শান্তি চুক্তির ৯৭ ভাগ বাস্তবায়িত হ‌য়েছে। আর যেগু‌লো বাকি আছে তা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সাংঘ‌র্ষিকতা এড়িয়ে উভয়পক্ষ‌কে বসে সম্পাদন কর‌তে হবে। শান্তিচুক্তির পর সব অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে এখনও অস্ত্র আছে। তা দিয়ে তারা নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় অনেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রাণ হা‌রি‌য়ে‌ছেন। এখন একমাত্র উপায় দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দি‌য়ে তা‌দের (পাহাড়ি সন্ত্রাসী) নির্মূল করা। কারণ, তা‌দের কাছে যে অস্ত্র আছে তা অবৈধ। সরকারের আন্তরিকতা থাকার পরও অবৈধ অস্ত্র রেখে তারা অন্যায়ভাবে আয় অব্যাহত রাখায় চুক্তির বাস্তবায়ন পু‌রোপু‌রি সম্ভব হচ্ছে না।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী মো. ম‌জিবর রহমানের দাবি, ‘এটা‌কে শান্তিচুক্তি বলা যাবে না, এটা হচ্ছে পার্বত্য চুক্তি। এ চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হ‌য়ে‌ছে সন্তু লারমা। তিনি আগে অন্ধকারে ছিলেন, চুক্তির ফলে আলোতে এসেছেন। তিনি গোডাউন থেকে কিছু পুরাতন জরাজীর্ণ অস্ত্র জমা দি‌য়ে চুক্তি ক‌রে জাতীয় পতাকা নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন। গাড়ি-বাড়ি নি‌য়ে বিলাসিতা করছেন। তার লোক‌দের চাকরি দি‌য়ে পুনর্বাসন করেছেন। এতে কিছু কিছু পাহাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাঙালিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হ‌য়ে‌ছেন। বাঙালিদের ৮০ ভাগ ভো‌টে এমপি নির্বাচিত হলেও চাকরির ক্ষেত্রে পাঁচ ভাগ বাঙালিও টে‌কে না। আর অস্ত্রের ঝনঝনানিও থামে না।’

এ বিষয়ে জেএসএস নেতাদের অভিযোগ, সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এর মূল ধারাগু‌লো বাদ পড়েছে। বিএন‌পি সরকার ক্ষমতায় থাকার পর আমা‌দের ধারণা ছিল, পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু ধাপে ধাপে কয়েকবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, উল্টো পাহাড়ে নতুন নতুন আঞ্চলিক সংগঠন তৈরি ক‌রে তা‌দের মাধ্যমে পাহাড়ে আমা‌দের নেতাকর্মী‌কে হত্যা করা হচ্ছে। এসব সংগঠন‌কে উল্টো আমা‌দে‌র চাঁদা দি‌তে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমা‌দের নিজেদের টি‌কে থাকাই কষ্ট হ‌য়ে উঠছে।

খু‌মি সম্প্রদায়ের সমাজকর্মী লেলুন খুমী ব‌লেন, ‘পাহাড়ে এখনও অস্ত্রের ঝনঝনানি, খুন, গুম, অপহরণ বিদ্যমান রয়েছে। সরকার চুক্তির মূল ধারাগু‌লো বাস্তবায়ন না করার কারণে সমস্যাগু‌লো দিন দিন জটিল হচ্ছে। এখন পাহাড়ের সম্প্রদায়ের মানুষরাও নিজের ঘ‌রে থাক‌তে পারছে না। চুক্তির ধারাগু‌লো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ের খুন, গুম, অপহরণসহ সব সমস্যার সমাধান হ‌য়ে‌ যেত।’

স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরি‌য়ে আনতে হলে সেনা ও র‌্যাব ক্যাম্প বৃদ্ধি করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসী‌দের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাঁদাবাজিও বন্ধ করতে হবে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ জুন বান্দরবন জেলার রোয়াংছড়িতে মসজিদের ইমাম ওমর ফারুককে (৫০) ঘরে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ১৯ জুলাই বান্দরবন সদরের ক্যামলং পাড়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও পল্লী চিকিৎসক অং ক্য থোয়াইকে (৪২) অপহরণের পর হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ২৩ নভেম্বর রা‌তে রোয়াংছ‌ড়ির তালুকদার পাড়ার উথায়াইনু মারমা‌কে গু‌লি ক‌রে হত্যা ক‌রে সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া ২০২০ সালের ১৭ এপ্রিল রোয়াংছড়ি উপজেলার কানাইজোপাড়ায় সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপের এক সদস্যকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই বছরের ১৫ মে রুমা উপজেলার গালেগ্যা ইউনিয়নের দুই নৌকা চালককে অপহরণের পর গুম করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ জুলাই রুয়াল লুল থাং বমকে (৩০) সদর ইউনিয়নের হেব্রনপাড়া থেকে অপহরণ করা হয়। এখনও মেলেনি তা‌দের সন্ধান। ৬ জুলাই গুংগা জলি ত্রিপুরা (৪১) নামে এক যুবককে কুহাল‌ংয়ের ১নং এলাকা থেকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে‌। একই বছরের ৭ জুলাই বান্দরবন সদর উপজেলার বাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারের মারমাপাড়ায় প্রতিপক্ষের গুলিতে জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা) গ্রুপের ছয় নেতাকর্মী নিহত হন। ১ সেপ্টেম্বর বান্দরবা‌নের বাঘমারায় গুলিতে নিহত হন মংসিং উ মারমা। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রোয়াংছ‌ড়ির নতুনপাড়ায় সা‌বেক মেম্বার‌ ছাউপ্রু (৫০) মারমা‌কে গু‌লি ক‌রে হত্যা ক‌রে সন্ত্রাসীরা।

২০১৯ সালের ৭ মে সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতির কর্মী বিনয় তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। অপহরণ করা হয় ফোলাধন তঞ্চঙ্গ্যা নামের অপর কর্মীকে। এখনও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ৯ মে সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতির সমর্থক জয় মনি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ১৯ মে বান্দরবানের রাজবিলায় আওয়ামী লীগের সমর্থক ক্য চিং থোয়াই মারমাকে (২৭) অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করে। ২২ মে রাতে চ‌থোয়াইমং মারমা‌কে বালাঘাটার চড়ুইপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা অপহরণের পর হত্যা ক‌রে। ২৫ জুন রোয়াংছড়িতে আওয়ামী লীগ কর্মী অংসিচিং মারমাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা ও ২২ জুলাই দুপুর দেড়টায় বান্দরবন সদ‌রের শামুকঝি‌ড়ি এলাকায় গু‌লি ক‌রে রোয়াংছ‌ড়ি তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মংমং থোয়াই মারমা‌কে হত্যা ক‌রে।

এসব হত্যায় পাহাড়ের শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য জনসংহতি স‌মি‌তিকে (‌জেএসএস-মূল) দায়ী করছেন নিহতের স্বজনেরা।

Leave a Reply