তিনদিন টানা সরকারি ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে পর্যটন জেলা বান্দরবানে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি না থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে ছিলো ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকেরা। জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। এক সপ্তাহ আগে থেকে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে যায়। লম্বা সরকারি ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের একটু ক্লান্তি দূর করতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার মধ্যেও বিনোদনের খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন পাহাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক লীলাভুমি বান্দরবান। বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য বিনোদনের জন্য রয়েছে মেঘলা, প্রান্তিকলেক, নীলগীরী, নাফাখুম, রুমা রিঝুকঝনা, শৈলপ্রভাত, চিম্বুকসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পর্যটন স্পট। টানা ছুটি ছাড়াও গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ছয় ঋতুর সব সময় বান্দরবানের বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের আগমন ঘটে। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে বিশেষ দিন ছাড়া বান্দরবানে তেমন পর্যটকের আনোগোণা দেখা যায় না। শুক্রবার-শনি-রবিবার টানা তিনদিন সরকারি ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকের ঢল নেমেছে।

এদিকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ পাহাড়! আমাদের খুবই পছন্দ হয়েছে বান্দরবান। এখানে পাহাড়, সবুজ মাঠ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, মেঘ সব কিছুই অসাধারণ। তবে বান্দরবানে প্রবেশের পর কোথায় ঘুরবো, কিভাবে যাবো বা সুযোগ সুবিধা নিয়ে কোন পরামর্শ বা দিকনির্দেশনার অভাবে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা মনে করেন, পরিবহণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোকে আরও ঢেলে সাজানো গেলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে। এতে পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন খাতে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। বান্দরবানের নীলাচল, নিলগীরি ও মেঘলা পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রীজ এবং পাহাড়ী ঝর্ণা ও উঁচুনিচু পাহাড়ের মেঘে ঢাকা সত্যিই অসাধারণ। পাহাড়ি জেলায় উপভোগ করে অনেক তৃপ্ত পাওয়া যায়।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, তিন দিনের ছুটিতে বান্দরবানে বেশ পর্যটকের সমাগম হয়েছে, বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। জেলা শহরে হোটেল-মোটেলের রুম না পেয়ে অনেক পর্যটক বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরতে চলে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, বান্দরবান জেলায় ৬০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে আর পর্যটকবাহী যান রয়েছে প্রায় চার শতাধিক এবং এই পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত জেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

এদিকে বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হোটেল-টানা তিনদিনের সরকারি ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পর্যটক আসছে। এক সপ্তাহ আগ থেকে হোটেল-মোটেল বুকিং হয়েছে। ঘুরতে আসা ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের জন্য সব রকম সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। টানা ছুটি থাকায় বান্দরবানে পর্যাপ্ত পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে পর্যটকদের সমাগম কমে গেছে, যার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এখনও লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ বিশেষ দিন কিংবা সরকারি টানা ছুটি ছাড়া পর্যটকদের তেমন একটা আনাগোনা দেখা যায় না।

জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্য ঘুরতে পারবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সার্বক্ষণিক মোতায়েন রাখা হয়। নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই এবং কোনও পর্যটক যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চায় তাও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন,২১ ফেব্রুয়ারি ছুটি ঘিরে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে এবং বান্দরবান জেলা পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন

Leave a Reply