Hits: 18

মোঃ শফিকুর রহমান, বান্দরবান প্রতিনিধি:
দ্বিতীয় ধাপে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার আগেই বান্দরবানে তৃতীয় ধাপে আরো ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষনা হয়েছে। আলীকদম ও রুমা উপজেলার এসব ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করে তাদের দলীয় প্রতিক নৌকা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির ৯টি পরিষদে বুধবার (২৭অক্টোবর) প্রতিক নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে প্রার্থীরা। সবমিলিয়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

বান্দরবানের আলীকদম ও রুমা উপজেলায় তৃতীয় ধাপে যারা নৌকা প্রতিক পেয়েছেন তারা হলেন- আলীকদম সদর ইউপিতে মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন (তিনি ২০১৬সনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন), চৈক্ষ্যংয়ে ফেরদৌস রহমান, নয়াপাড়াতে ফোগ্য মার্মা, কুরুকপাতা ক্রাতপুং ম্রো মনোনয়ন পেয়েছেন। রুমা উপজেলার রুমা সদরে শৈমং মার্মা, পাইন্দুতে সাপ তলং বম, গ্যালেংগ্যাতে মেনরত ম্রো, রেমাক্রী প্রাংসাতে জিরা বমকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিক দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বান্দরবানে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। এই নিয়ে ভাবতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলকে। দলীয় প্রতিক না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কফিল উদ্দিন, আলীকদম সদরে আনোয়ার জিহাদ চৌধুরী, বাইশারীতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, দোছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: হাবিবুল্লাহ, আওয়ামী লীগ তৃণমূল সমর্থক রশিদ আহমদ চৌধুরী। দলীয় এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ইস্যুটি উভয় সংকটে ফেলে দিয়েছে ক্ষমতাসীনদের। যারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বা হতে চাচ্ছেন তাদের সবাই স্থানীয়ভাবে রাজীনৈতিক কিংবা পারিবারিকভাবে প্রভাবশালী। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

লামা উপজেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহসভাপতি আক্তার কামাল। তিনি আসন্ন ১১নভেম্বর অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জানান, জেলা থেকে একক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোর কারণে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। তারঁ মতো আরো কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর বক্তব্যও একই। এলাকায় জনমত ও প্রভাব থাকার পরও অদৃশ্য কারণে তারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের নেতাকর্মী ও ভোটারদের আশ^স্থ করতে তারা প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে না হলেও আওয়ামী লীগের একটি অংশ গোপনে বিদ্রোহী অনেক প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার বিএনপি-জামায়াতের ভোটাররাও সুযোগ বুঝে নৌকার বিপক্ষের প্রার্থীদের পেছনে দৌড়াচ্ছেন।

এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা এলাকায় দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় জেলা আওয়ামীলীগ অনেকটা ভেবে চিন্তে এগুচ্ছেন। গত মঙ্গলবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্টিত সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ক্য শৈ হ্লাসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের র্শীষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলীকদম উপজেলার চার ইউনিয়নে পুরনো চেয়ারম্যানদের উপর ভরসা রেখেছে ক্ষমতাসীন দল। এবারো পুরনো চার চেয়ারম্যানকে মনোনীত করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে পূর্বের প্রার্থীকে বহাল রেখেছে। দোছড়িতে বর্তমান চেয়ারম্যানকে বাদ নিয়ে মনোনীয়ন দেওয়া হয়েছে নতুন প্রার্থীকে। ঠিক একইভাবে রুমা উপজেলার চার ইউপির দুটিতে নতুন আর দুটিতে পুরনো প্রার্থীদের নৌকা প্রতিক দেওয়া হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচায় বাছাই ৪ নভেম্বর, ১১ নভেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ১১নভেম্বর।

Leave a Reply